আয়কর রেয়াত ২০২৬–২০২৭ | Tax Rebate হিসাব ও নিয়ম

BANGLADESH INCOME TAX GUIDE

আয়কর রেয়াত (Tax Rebate) ২০২৬–২০২৭: আইন, যোগ্যতা ও হিসাব পদ্ধতি

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৮ ও ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত, অনুমোদিত বিনিয়োগ, কর ছাড়ের সঙ্গে পার্থক্য, সর্বোচ্চ সীমা এবং উদাহরণসহ রেয়াত নির্ণয়ের বিস্তারিত আলোচনা।

১. আয়কর রেয়াত (Tax Rebate) কী?

বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থায় একজন করদাতার করের বোঝা হ্রাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুবিধা হলো আয়কর রেয়াত বা Tax Rebate।

আয়কর আইন, ২০২৩ এবং প্রাসঙ্গিক অর্থ আইনের বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ বা দান করার মাধ্যমে করদাতারা তাঁদের প্রদেয় আয়করের পরিমাণ আইনসম্মতভাবে কমিয়ে আনতে পারেন।

বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করে করদাতার প্রাসঙ্গিক মোট আয়, যোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের হার এবং আইন নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার ওপর।

মূল ধারণা: Tax Rebate সরাসরি হিসাবকৃত প্রদেয় কর কমায়। এটি মোট আয় থেকে কোনো ব্যয় বাদ দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়ার সমতুল্য নয়।

২. কর ছাড় (Tax Deduction) বনাম কর রেয়াত (Tax Rebate)

কর ছাড় এবং কর রেয়াতকে অনেকেই একই বিষয় মনে করেন। কিন্তু আইনগত ও অর্থনৈতিকভাবে এ দুটি পৃথক ধারণা।

Tax Deduction — কর ছাড়

কর ছাড় বা ডিডাকশন করদাতার মোট আয় থেকে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নির্দিষ্ট অঙ্ক বাদ দিয়ে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ কমায়।

অর্থাৎ, কর গণনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত আয়ের পরিমাণ হ্রাস পায়।

Tax Rebate — কর রেয়াত

কর রেয়াত সরাসরি করদাতার মোট হিসাবকৃত কর (Gross Tax Payable) থেকে রেয়াতের সমপরিমাণ অর্থ কর্তন করে।

একে Taka-for-Taka Tax Reduction বলা যায়।

বিষয় Tax Deduction Tax Rebate
কোথা থেকে বাদ যায়? করযোগ্য আয় নির্ধারণের সময় আয় থেকে হিসাবকৃত প্রদেয় কর থেকে
মূল প্রভাব Taxable Income কমায় Tax Payable কমায়
প্রকৃতি আয় গণনাসংক্রান্ত ছাড় সরাসরি কর-দায় হ্রাস

৩. আয়কর রেয়াতের আইনি ভিত্তি (Legal Framework)

বাংলাদেশে বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের প্রধান আইনি ভিত্তি হলো আয়কর আইন, ২০২৩ (Income Tax Act, 2023)।

ধারা ৭৮

বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের প্রাসঙ্গিক বিধান ও হিসাব পদ্ধতির আইনি ভিত্তি।

ষষ্ঠ তফসিল (Sixth Schedule)

আইন অনুযায়ী রেয়াতের জন্য বিবেচনাযোগ্য বিনিয়োগ, ব্যয় ও অনুদানের প্রাসঙ্গিক বিধান।

এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক জারিকৃত প্রাসঙ্গিক প্রজ্ঞাপন, এসআরও (SRO) এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ আইনের বিধানও বিবেচনায় নিতে হবে।

৪. কোন কোন খাতে বিনিয়োগ ও দান করলে আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়?

সংযুক্ত নথিতে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত অনুমোদিত প্রধান বিনিয়োগ ও ব্যয়ের খাতগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। সংশ্লিষ্ট করবর্ষে প্রতিটি খাতের যোগ্যতা ও সীমা যাচাই করতে হবে।

৪.১ ডিপোজিট পেনশন স্কিম (DPS)

তফসিলি ব্যাংক বা যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত ডিপোজিট পেনশন স্কিমে সঞ্চয় করলে প্রযোজ্য শর্তে আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়।

সংযুক্ত নথি অনুযায়ী বার্ষিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতের জন্য বিবেচিত হয়।

৪.২ সঞ্চয়পত্র ও সরকারি সিকিউরিটিজ

বাংলাদেশ ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়কৃত নির্দিষ্ট সঞ্চয়পত্র এবং সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ড বা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ।

৪.৩ জীবনবিমার প্রিমিয়াম

করদাতা নিজে, তাঁর স্ত্রী/স্বামী অথবা সন্তানের নামে সম্পাদিত জীবনবিমার বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রযোজ্য শর্তে রেয়াতযোগ্য হতে পারে।

সংযুক্ত নথিতে উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী বিবেচনাযোগ্য প্রিমিয়াম পলিসির মোট বীমা অঙ্কের (Sum Assured) ১০%-এর বেশি হতে পারবে না।

৪.৪ তালিকাভুক্ত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-এ তালিকাভুক্ত শেয়ারে নতুন বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ডে বিনিয়োগ।

৪.৫ অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ড

আইন অনুযায়ী স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড (Recognized Provident Fund)-এ কর্মচারী ও নিয়োগকর্তার যৌথ অবদান প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী বিবেচিত হয়।

৪.৬ অনুমোদিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান

সরকার বা NBR অনুমোদিত বিভিন্ন কল্যাণ তহবিল ও প্রতিষ্ঠানে যোগ্য অনুদান রেয়াতের জন্য বিবেচিত হতে পারে।

  • অনুমোদিত কল্যাণ তহবিল।
  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কল্যাণ প্রতিষ্ঠান।
  • অটিস্টিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠান।
  • অনুমোদিত জাকাত ফান্ড।
  • যোগ্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
গুরুত্বপূর্ণ: কোনো বিনিয়োগ বা অনুদান রেয়াতযোগ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন, অনুমোদন, সীমা ও প্রযোজ্য শর্তের ওপর নির্ভর করে।

৫. আয়কর রেয়াত ২০২৫–২০২৬ বনাম ২০২৬–২০২৭

সংযুক্ত নথিতে দুই করবর্ষের জন্য বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের হার ও সর্বোচ্চ সীমার পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে।

বিষয় ২০২৫–২০২৬ করবর্ষ ২০২৬–২০২৭ করবর্ষ
যোগ্য বিনিয়োগের ওপর রেয়াতের হার ১৫% ১০%
সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০,০০,০০০ টাকা ৭,৫০,০০০ টাকা
প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের সীমা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের বিধান অনুযায়ী ৩%
২০২৬–২০২৭ করবর্ষের মূল বিষয়: সংযুক্ত নথির সংশোধিত সূত্র অনুযায়ী যোগ্য বিনিয়োগের ১০%, প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩% এবং ৭,৫০,০০০ টাকার সর্বোচ্চ সীমা বিবেচনা করতে হবে।

৬. আয়কর রেয়াত গণনার আইনি সূত্র (Calculation Formula)

সংযুক্ত নথিতে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের জন্য একটি তিন-স্তরবিশিষ্ট সূত্র (Three-Tier Formula) উল্লেখ করা হয়েছে।

নিচের তিনটি পরিমাণের মধ্যে যেটির মান সর্বনিম্ন, সেটিই বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হবে।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষের Three-Tier Formula

  1. প্রকৃত যোগ্য বিনিয়োগের ১০% (10% of Actual Eligible Investment)
  2. প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩% (করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয়ের খাত বাদ দিয়ে)
  3. সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সীমা: ৭,৫০,০০০ টাকা।

প্রাপ্য আয়কর রেয়াত = উপরোক্ত তিনটি পরিমাণের মধ্যে সর্বনিম্নটি।

৭. উদাহরণসহ আয়কর রেয়াত নির্ণয়

ধরা যাক, একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার প্রাসঙ্গিক মোট আয় ১২,০০,০০০ টাকা এবং যোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ ২,০০,০০০ টাকা।

এখন ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের সূত্র অনুযায়ী তাঁর বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত নির্ণয় করতে হবে।

প্রদত্ত তথ্য

বিবরণ পরিমাণ
প্রাসঙ্গিক মোট আয় ১২,০০,০০০ টাকা
যোগ্য বিনিয়োগ ২,০০,০০০ টাকা
বিনিয়োগের ওপর রেয়াতের হার ১০%
মোট আয়ের সীমা ৩%
সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ৭,৫০,০০০ টাকা

ধাপ ১: প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩%

১২,০০,০০০ × ৩%

= ৩৬,০০০ টাকা

ধাপ ২: যোগ্য বিনিয়োগের ১০%

২,০০,০০০ × ১০%

= ২০,০০০ টাকা

ধাপ ৩: সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সীমা

সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা = ৭,৫০,০০০ টাকা

ধাপ ৪: তিনটি অঙ্কের তুলনা

হিসাবের ভিত্তি পরিমাণ
প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩% ৩৬,০০০ টাকা
যোগ্য বিনিয়োগের ১০% ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সীমা ৭,৫০,০০০ টাকা

চূড়ান্ত উত্তর

তিনটি পরিমাণের মধ্যে সর্বনিম্নটি হলো ২০,০০০ টাকা।

সুতরাং, প্রাপ্য বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত = ২০,০০০ টাকা।

দ্রষ্টব্য: এটি একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত আয়কর রিটার্নে করদাতার আয়, বিনিয়োগের যোগ্যতা, ন্যূনতম কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান বিবেচনা করতে হবে।

৮. ন্যূনতম কর এবং অন্যান্য আইনি বাধ্যবাধকতা

একজন করদাতা যতই যোগ্য বিনিয়োগ করুন না কেন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ন্যূনতম করের (Minimum Tax) বিধান বিবেচনা করতে হবে।

সংযুক্ত নথিতে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম করের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত কর-দায় নির্ণয়ের সময় সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কার্যকর ন্যূনতম করের বিধান অনুসরণ করতে হবে।

সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল

যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা গুরুত্বপূর্ণ। সংযুক্ত নথিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের উদাহরণ দিয়ে সম্ভাব্য আইনি সুবিধা বা প্রণোদনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কার্যকর আইন ও NBR-এর নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।

পরামর্শ: সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নির্ধারিত Tax Day, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এবং প্রযোজ্য প্রণোদনার বিধান যাচাই করুন।

৯. আয়কর রেয়াত দাবি করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

সঠিকভাবে আয়কর রেয়াত দাবি করার জন্য যোগ্য বিনিয়োগ ও অনুদানের প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের তালিকা

  1. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত DPS-এর স্টেটমেন্ট বা সার্টিফিকেট।
  2. জীবনবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের রসিদ বা সনদ।
  3. প্রভিডেন্ট ফান্ড বা অনুমোদিত পেনশন স্কিমে অবদানের প্রমাণ।
  4. শেয়ার, সিকিউরিটিজ বা অনুমোদিত তহবিলে বিনিয়োগের বিবরণী।
  5. যোগ্য অনুদানের রসিদ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সনদ।
  6. ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও লেনদেনের প্রমাণ।
  7. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র।
বিশেষ সতর্কতা: করদাতার দাবি করা রেয়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ এবং আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

১০. আয়কর রেয়াত সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

আয়কর রেয়াত কী?

অনুমোদিত বিনিয়োগ বা দানের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী করদাতার হিসাবকৃত প্রদেয় কর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমানোর সুবিধাকে আয়কর রেয়াত বলে।

Tax Deduction এবং Tax Rebate কি একই?

না। Tax Deduction করযোগ্য আয় কমায়, অন্যদিকে Tax Rebate সরাসরি হিসাবকৃত প্রদেয় কর কমায়।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষে রেয়াত কীভাবে হিসাব করা হয়?

সংযুক্ত নথির সূত্র অনুযায়ী যোগ্য বিনিয়োগের ১০%, প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩% এবং ৭,৫০,০০০ টাকার মধ্যে সর্বনিম্ন পরিমাণ বিবেচনা করা হয়।

DPS-এ বিনিয়োগ করলে কি আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়?

যোগ্য DPS-এ বিনিয়োগ প্রযোজ্য আইনি শর্ত ও সীমা অনুযায়ী রেয়াতের জন্য বিবেচিত হতে পারে।

জীবনবিমার প্রিমিয়াম কি রেয়াতযোগ্য?

করদাতা নিজে, স্ত্রী/স্বামী অথবা সন্তানের নামে যোগ্য জীবনবিমার প্রিমিয়াম প্রযোজ্য শর্তে রেয়াতযোগ্য হতে পারে।

আয়কর রেয়াত দাবি করতে কী কী প্রমাণ প্রয়োজন?

DPS স্টেটমেন্ট, জীবনবিমার রসিদ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রমাণ, বিনিয়োগের বিবরণী, অনুদানের রসিদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং প্রযোজ্য প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করা উচিত।

বেশি বিনিয়োগ করলেই কি বেশি রেয়াত পাওয়া যায়?

সব ক্ষেত্রে নয়। প্রাপ্য রেয়াত যোগ্য বিনিয়োগ, প্রাসঙ্গিক মোট আয় এবং আইন নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার ওপর নির্ভর করে।

১১. উপসংহার

বাংলাদেশে বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত করদাতার কর-দায় কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সুবিধা।

তবে রেয়াতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করে করদাতার প্রাসঙ্গিক মোট আয়, যোগ্য বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের হার এবং আইন নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার ওপর।

সংযুক্ত নথিতে ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের জন্য যোগ্য বিনিয়োগের ১৫% এবং সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ টাকার সীমা উল্লেখ রয়েছে।

একই নথিতে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের সংশোধিত বিধান হিসেবে যোগ্য বিনিয়োগের ১০%, সর্বোচ্চ ৭,৫০,০০০ টাকা এবং প্রাসঙ্গিক মোট আয়ের ৩% সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই রেয়াত দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কার্যকর বিধান, অনুমোদিত বিনিয়োগের যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই করা উচিত।

Income Tax, Tax Rebate ও Tax Compliance বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন?

আয়কর রিটার্ন, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়ে পেশাগত পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন।

Contact Our Chamber

আইনি তথ্যসূত্র ও Disclaimer

মূল আইন: আয়কর আইন, ২০২৩ (Income Tax Act, 2023)।

  • ধারা ৭৮ — বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত।
  • ষষ্ঠ তফসিল — প্রাসঙ্গিক বিনিয়োগ ও ব্যয়ের বিধান।
  • সংশ্লিষ্ট অর্থ আইন।
  • NBR-এর প্রযোজ্য প্রজ্ঞাপন ও SRO।

সরকারি তথ্যসূত্র: National Board of Revenue (NBR)

Laws of Bangladesh

এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত। প্রকৃত আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কার্যকর আইন, সংশোধনী, NBR নির্দেশনা এবং ব্যক্তিগত কর-পরিস্থিতি যাচাই করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top